THE Sustainability Impact Ratings 2026-এ রুয়েটের সাফল্য; বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল প্রকৌশল শিক্ষা
মো: ইসমাইল, রুয়েট প্রতিনিধি:
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান Times Higher Education (THE) প্রকাশিত Sustainability Impact Ratings 2026-এ স্থান করে নিয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। এ মূল্যায়নে রুয়েট বিশ্বব্যাপী ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান অর্জন করেছে, যা দেশের প্রকৌশল শিক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিতে প্রতিবছর এই রেটিংস প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Times Higher Education। বর্তমানে এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা, যা জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব অবদানকে মূল্যায়ন করে।
এবারের রেটিংসে বিশ্বের ১১৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৬৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়নের মাধ্যমে রুয়েট সার্বিকভাবে ৬০.৭ থেকে ৬৬.১ স্কোর অর্জন করেছে। পাশাপাশি Partnerships for the Goals (SDG 17)-এ ৪৭.৫–৫৩.৬, মানসম্মত শিক্ষা (SDG 4)-এ ৬৮.৫–৭৪, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন (SDG 6)-এ ৫৮.৭–৬৭.২ এবং সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি (SDG 7)-এ ৫৫.৪–৫৯.৮ স্কোর অর্জন করেছে।
রেটিংসের ফলাফলে শিক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে রুয়েটের কার্যক্রম ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে। টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অর্জন প্রসঙ্গে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “বৈশ্বিক এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে রুয়েট যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এই অর্জন তারই প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্মে মূল্যায়িত হওয়া রুয়েটের অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই স্বীকৃতি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আরও অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে রুয়েটের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।”
২০২৬ সালের রেটিংসে বাংলাদেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইএসটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এবার রুয়েট ও এমআইএসটি স্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও শিক্ষাদানের মতো সূচকের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই শিল্পায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্যায়ন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু মর্যাদার নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রদর্শনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক প্রকৌশল শিক্ষায় রুয়েটের এই সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।