অষ্টগ্রামে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার জমি কৌশলে দলিল করে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তল ইউনিয়নের কাস্তল গ্ৰামের মানসিক ভারসাম্যহীন জানোয়ারা খাতুন (৬০) নামে এক বৃদ্ধা কে তার আপন ভাইয়ের ছেলে উসমান গনি ও তার মা হাজেরা বেগম ভারসাম্যহীন মহিলা কে অষ্টগ্রাম বাজারে নিয়ে শাড়ি কেনার কথা বলে অষ্টগ্রাম সদরে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বে থেকেই দলিল লেখক ও বৃদ্ধার ভাইয়ের লোকজন সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করে তার নিকট থেকে টিপসই নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ব্যাপারে ভারসাম্যহীন জানোয়ারা বেগমের ছেলে আজিজুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জন কে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বিগত ৯ মাস পূর্বে মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোন ফলাফল আসেনি। নিরুপায় হয়ে রবিবার ২৩ শে আগষ্ট সকালে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্টের নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে আপন ৩ ভাই মিলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মোঃ আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, তার মা জানোয়ারা একজন ভারসাম্যহীন মহিলা তাকে আমরা দীর্ঘদিন যাবত ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়ে ভালো চিকিৎসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। শিকল দিয়ে হাত পা বেঁধে রাখতে হয় । আমরা নানার বাড়ির ওয়ারিশান সূত্রে প্রাথমিক ভাবে আমরা ১ শতাংশ জায়গা পাই যার মুল্য আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা। প্রতিপক্ষ আমার মামাতো ভাই সুযোগ বুঝে আমার মাকে অষ্টগ্রাম বাজারে কাপড় কেনার কথা বলে নিয়ে যায়। তখন আমরা কোন সন্দেহ করিনি। প্রথমে তারা কাপড়ের দোকানে না গিয়ে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চলে যায়। সেখানে পূর্বে থেকেই এই চক্রটি দলিল তৈরি করে সাব রেজিস্ট্রারের সামনে নিয়ে টিপসই নিয়ে ফেলে । কিছুদিন পর আমরা জানতে পারি যে আমার মাকে অষ্টগ্রাম দলিল অফিসে নিয়ে আমার মার সম্পত্তি সবকিছু লিখে নিয়েছে। পরবর্তীতে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযুক্ত ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, উসমান গনি (মামাতো ভাই) , হাজেরা খাতুন (মামি) , সুয়াব মিয়া ( দলিল লেখক) , সাব রেজিস্ট্রার ফরিদ মুল্লা । আজিজুর আরো বলেন, প্রথমে আমরা এই চক্রের বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগ করিনি। থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানার ওসি মহোদয় আমাদের কোর্টে মামলা করতে বলেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের নিকট চেয়ারম্যানের পরিষদের কাগজ পত্র ওয়ারিশান সার্টিফিকেট সহ জমির সকল কাগজপত্র দলিল আমরা সংগ্ৰহ করি। অষ্টগ্রাম উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এইসব জিনিস দলিল লেখকের বিষয় তারা পূর্ব থেকেই ক্রেতা বিক্রেতাগন দলিল লেখকের সাথে পরামর্শ করেই ভিতরে আসেন । আমরা শুধু দাতাকে টাকা পয়সা পেয়েছেন কি না জানতে চাই এবং সজ্ঞানে সাক্ষর করছেন কি না এগুলো দেখার দায়িত্ব আমার। কেউ অভিযোগ না করলে দলিলে আমরা সাইন করে দেই । দাতা উসমান গনির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
অষ্টগ্রাম থানার ওসি রুকনুজ্জামান জানান, ঘটনার পর বাদী পক্ষ আমার নিকট এসেছিলেন মামলা দেওয়ার জন্য কিন্তু বিষয়টি অন্যরকম হওয়ায় তিনি তাদের কে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। কোর্ট সিদ্ধান্ত নিলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিবো।