বিএনপি নেতা বাপ্পির বক্তব্যের প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াতের বিবৃতি
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কয়রা উপজেলা শাখা। বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান ও সেক্রেটারি শেখ সায়ফুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কয়রা উপজেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা মোঃ সুজাউদ্দীনের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ আগস্টের ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে মনিরুল হাসান বাপ্পি ‘মনগড়া, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বক্তব্য দিয়েছেন। জামায়াত নেতারা দাবি করেন, সংসদ সদস্যের জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বে ঈর্ষান্বিত হয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী হিসেবে নিজের দুর্বলতা আড়াল করতেই বাপ্পি এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। স্থানীয় জনগণ বিষয়টি বুঝতে পেরে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি করেন তারা।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার আমির ও কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন মামলা ও হামলার শিকার হলেও তিনি এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে খুলনা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন।
সরকারি বরাদ্দের অর্থ সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও নিকটাত্মীয়দের দেওয়া এবং চাল-গমসহ সরকারি সহায়তার অর্থ জামায়াতের কর্মীরা আত্মসাৎ করছে—মনিরুল হাসান বাপ্পির এমন বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা জামায়াত। তাদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন উপকরণ স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যকেও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন জামায়াত নেতারা। তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সরকারি বরাদ্দের তথ্য সংশ্লিষ্টরা স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। একজন সংসদ সদস্য দলীয় প্রতিনিধি নন, তিনি নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতিনিধি।
এ ছাড়া সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দ করা পানির ট্যাংক জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি কীভাবে বিতরণ করেছেন এবং তা তাঁর দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না—এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে উপজেলা জামায়াত।
বিবৃতিতে বলা হয়, অসত্য বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান জামায়াত নেতারা।
একই সঙ্গে আধুনিক কয়রা-পাইকগাছা গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা, গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।