২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিষ্ঠানে দাখিলে পাস মাত্র ১, ফেল ২২ জন
উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা):
মনোরম একাডেমিক ভবন, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ। শিক্ষক-শিক্ষিকাও কম নয়—১৮ জন। সঙ্গে কর্মচারী রয়েছেন পাঁচজন। এত সুযোগ-সুবিধার পরও ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা আছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ঘটেছে চরম ফল বিপর্যয়। ২৬ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৩ জন। ২৩ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র একজন। বাকি ২২ জনই অকৃতকার্য। পাসের হার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এমন ফলাফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য,উপকূলীয় কয়রার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন জরাজীর্ণ হলেও তাদের ফলাফল সন্তোষজনক। সেখানে এত উন্নত পরিবেশেও এত ফেল মেনে নেয়া কষ্টকর। একজন শিক্ষক যদি একজন ছাত্রীকে বিশেষভাবে তদারকি করতো তাও ১৮ জন পাশ করার কথা। প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য শ্রেণিতেও খুব বেশি শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করার পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান ও তদারকি বাড়ানো দাবি তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সুপার শুধু নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, পাঠদানে তার নজরদারি কম। সুপারের ছেলে, উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনকে বিতর্কিতভাবে চাকরী দেয়া হয়। ওই চাকরীতে গেল বছর কি যেন সমস্যা হয়, বেতন বন্ধ হয়ে যায়। এসব নিয়ে সুপার ব্যস্ত থাকেন।
মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর আমাদের ফলাফল অনেক ভালো হয়েছে। এবারও ভালো ফল হবে বলে আশাবাদী ছিলাম। তবে কীভাবে কী হলো, বুঝতে পারছি না।’ তিনি জানান, ২৬ জন ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৩ জন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কয়েকবার ফোন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন পাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফলাফল পর্যালোচনা করে কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের পাঠদান আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।