জলাবদ্ধতা দূর করতে নির্মিত ড্রেনই এখন কুলাউড়া পৌরবাসীর মর/ণফাঁদ
কুলাউড়া প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ড্রেন এখন পৌরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের কাজ কিছু অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের ওপর স্ল্যাব না থাকায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে কুলাউড়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুলাউড়া গ্যাস পাম্প এলাকা থেকে শুরু করে উত্তর কুলাউড়া, বিশরাকান্দি, দক্ষিণ বাজার মোড়, থানার সামনে, উত্তর বাজার, উত্তর বাজার, সরকারি গুদাম ঘরের সামনে, সুনাপুর, সাদেপুর, জয়পাশা, মাগুরা, বাদে মনসুর, উছলাপাড়া, দক্ষিণ বাজার, বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ কিছু অংশ রয়েছে। এসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে,পানি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের পাশে নির্মিত ড্রেনের কয়েকটি অংশ দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় পানি ও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকছে। অনেক স্থানে ড্রেনের নোংরা পানি উপচে প্রধান সড়কে পড়ছে। এতে পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যানবাহন চলাচলের সময় সড়কে জমে থাকা নোংরা পানি ছিটকে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের পোশাক ও শরীরে লাগছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণের কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ড্রেনের ওপর স্ল্যাব না থাকায় অসাবধানতাবশত পথচারী ও শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়রা আরও জানান, পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি, অসম্পূর্ণ কাজ ও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, ড্রেনের অনেক অংশ নির্মাণ করা হলেও মাঝখানে একাধিক স্থানে সংযোগ না থাকায় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি ও আবর্জনা জমে পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে স্টেশনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণের কাজও ধীরগতিতে চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি কাজের যথাযথ তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে কুলাউড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।
অভিযোগের বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকেও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা দ্রুত অসম্পূর্ণ ড্রেনের কাজ শেষ করা, ড্রেনের সব সংযোগ নিশ্চিত করা, স্ল্যাব স্থাপন এবং নির্মাণকাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।