তাড়াইলে রাত জাগা ১২ ফার্মেসি, মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি রোগী-স্বজনদের
রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ):
রাত গভীর হলে জরুরি রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে পড়তে হতো কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। সেই দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেইটসংলগ্ন ১২টি ফার্মেসি পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন রাতভর (নাইট ডিউটি) খোলা রাখার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
তাড়াইল উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আজহারুল ইসলাম রুমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ১২ টি ফার্মেসি পালাক্রমে তারা ২৪ ঘন্টা খোলা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, মালিকের নাম, মোবাইল নম্বর ও ডিউটির তারিখ উল্লেখ করে একটি তালিকা তৈরি করে ফেসবুকে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করা হয়েছে। স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পড়ে এবং সাধারণ মানুষ এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
সমিতির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন একটি করে ফার্মেসি রাতভর খোলা থাকবে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগী কিংবা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা গভীর রাতেও প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন।
উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আজহারুল ইসলাম রুমান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।গভীর রাতে জরুরি ওষুধের জন্য যেন কোনো রোগী বা স্বজনকে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে লক্ষ্যেই প্রতিদিন একটি করে ফার্মেসি নাইট ডিউটিতে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ডিউটি তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি ফার্মেসি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেবা দেবে। কোনো রোগী যেন ওষুধের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঝরাতে একটি ইনজেকশন, স্যালাইন বা জরুরি ওষুধের জন্য এতদিন বিভিন্ন দোকানে ঘুরতে হতো। এখন নির্ধারিত একটি ফার্মেসি খোলা থাকবে—এমন নিশ্চয়তা থাকায় তারা অনেকটাই স্বস্তি বোধ করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি ডিউটি তালিকা নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের একটি দায়িত্বশীল ও মানবিক উদ্যোগ। নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম চলমান থাকলে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং রোগী-স্বজনদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে।