খুলনায় সদ্য রোপণ করা গাছ রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ চান নগরবাসী
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খুলনা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়ন ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গা এবং সড়কের পাশে নানা প্রজাতির গাছের চারা রোপণ শুরু করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ নগর গড়ে তোলার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী।
তবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়ানো গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ভাসমান পশু সদ্য রোপণ করা গাছের চারা নষ্ট করার পাশাপাশি সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের জন্যও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, একদিকে কেসিসি অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করছে, অন্যদিকে এসব চারা রক্ষায় ভাসমান পশু নিয়ন্ত্রণে এখনো কার্যকর ও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। ফলে যথাযথভাবে পরিচর্যা ও সুরক্ষা না পেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুফল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ইতোমধ্যে নগরীতে গবাদিপশু পালনকারী খামারিদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তালিকা তৈরির পর খামারিদের সঙ্গে বৈঠক করে গবাদিপশু নির্দিষ্ট স্থানে বেঁধে রাখার এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে পালনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে পরবর্তীতে গবাদিপশু আটক করে খোয়াড়ে রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
তবে নগরবাসীর প্রশ্ন—খামারিদের তালিকা তৈরি, বৈঠক এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে যদি সময় লাগে, তাহলে এই সময়ের মধ্যে সদ্য রোপণ করা গাছের চারাগুলো কীভাবে রক্ষা করা হবে?
বিশেষ করে নগরীর সড়কের পাশে ও উন্মুক্ত স্থানে রোপণ করা ছোট ছোট চারাগুলো গবাদিপশুর সহজ নাগালের মধ্যে রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় পশু অবাধে চলাচল করায় চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু গাছ নয়, ব্যস্ত সড়কে গবাদিপশু ঘোরাফেরা করায় যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নগরবাসীর মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে সদ্য রোপণ করা চারাগুলোর চারপাশে অস্থায়ী বেড়া বা সুরক্ষা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি এবং ভাসমান পশু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে গবাদিপশুর মালিকদের সচেতন করতে মাইকিং বা প্রচারণা চালানো যেতে পারে।
নগরীর পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু শুধু চারা রোপণ করলেই এর সুফল পাওয়া যাবে না; রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। আর সেই সুরক্ষার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও উন্মুক্ত স্থানে অবাধে বিচরণ করা গবাদিপশু।
এ অবস্থায় নগরবাসীর প্রত্যাশা, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তালিকা ও বৈঠকের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যাতে নতুন লাগানো গাছের চারা নষ্ট হওয়ার আগেই সেগুলো সুরক্ষিত করা যায় এবং নগরীর সড়কে ভাসমান পশুর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হয়।
নগরবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভাসমান পশু নিয়ন্ত্রণে কেসিসি কি দ্রুত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে?