অষ্টগ্রামে পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ, তদন্তে উর্ধ্বতন পুলিশ
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানায় কর্মরত (বর্তমানে ইটনা থানাধীন বাদলা তদন্ত কেন্দ্রে সংযুক্ত) কনস্টেবল দানিয়াল মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তার বিরুদ্ধে থানার অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস, ভুয়া পরিচয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানো, স্থানীয়ভাবে কথিত মাদক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং একজন সাংবাদিকের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন, দৈনিক ইনকিলাবের অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি নাদিরূজ্জামান । অভিযোগকারী জানান , একই সঙ্গে তার স্ত্রী মুক্তা আক্তারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ব্যবহার করে কিশোরগঞ্জের এক সাংবাদিকের কাছে অষ্টগ্রাম থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানো হয়। ওই ই-মেইলে দৈনিক ইনকিলাবের অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ নাদিরুজ্জামানের নামও যুক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাংবাদিককে বিতর্কে জড়ানো এবং তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
অনুসন্ধানে অভিযোগকারী সূত্র আরও দাবি করেছে, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে কনস্টেবল দানিয়াল মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিজেকে এআইজি পরিচয় দিয়ে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে থানার একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠাতেন।
তিনি আরো জানান, ব্যবহৃত ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণে সেটির সঙ্গে দানিয়াল মাহমুদের স্ত্রীর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ডিভাইসের মিল পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারী সূত্রের ভাষ্য, বিষয়টি জানার পর অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান সংশ্লিষ্ট বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কনস্টেবল দানিয়াল মাহমুদ ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন থেকে অষ্টগ্রাম থানায় যোগ দেন। পরে ২০২৬ সালের ১৮ জুন জেলা পুলিশের আদেশে ইটনা থানাধীন বাদলা তদন্ত কেন্দ্রে সংযুক্ত হন।
অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, বদলির আদেশ কার্যকরের পরও তিনি কয়েকদিন অষ্টগ্রামে অবস্থান করেন এবং এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। পরবর্তীতে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে এসেও অষ্টগ্রামে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, অষ্টগ্রামে একটি কথিত মাদক চক্রের সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীর যোগাযোগ ছিল। এছাড়া পুলিশ বিভাগের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায় ।
এ ব্যাপারে আজ ২ রা আগস্ট অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দানিয়াল মাহমুদ ও তার স্ত্রী মুক্তা আক্তারের মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে, ঘটনা সত্য। কনস্টেবল দানিয়াল মাহমুদ ও তার স্ত্রী মুক্তা আক্তার মাদক ব্যবসা করে আসছিল। পরবর্তীতে আমরা বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে অনুসন্ধান করি এবং কর্তৃপক্ষকে জানালে তাকে ইটনা থানাধীন বাদলা তদন্ত কেন্দ্রে বদলী করা হয়েছে। ইদানিং পুনরায় তাঁকে গোপালগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়। মাদক ব্যবসা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য প্রেরনের অভিযোগ রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম সার্কেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সহকারী পুলিশ সুপার সুবির সাহা এ প্রতিনিধি কে বলেন, কনস্টেবল দানিয়াল মাহমুদ এর বিষয়ে মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পেয়েছি যা এখনো তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে কনস্টেবল দানিয়াল মাহমুদ ও তার স্ত্রী মুক্তা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।