হোসেনপুরে কিশোরীকে জোরপূর্বক বিয়ে ও প্রাণনাশের অভিযোগ; বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে নির্যাতন, জোরপূর্বক বিয়ে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সুবিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার ৩১ শে জুলাই সকালে হোসেনপুর মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কিশোরী, তার অভিভাবক ও স্বজনরা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ আছমা আক্তার অভিযোগ করেন, একই এলাকার মোঃ শুপল মিয়া গং সহ কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তার নাবালিকা ভাতিজিকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে তাকে অপহরণের পর জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। বিয়ের পর থেকে কিশোরীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নির্যাতনের কারণে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। পরিবারটির দাবি, প্রতিপক্ষ বারবার হামলা, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এমনকি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর ও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ঘটনায় হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা কাঙ্ক্ষিত বিচার ও নিরাপত্তা পাননি বলে দাবি করেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মোছা ঃ আছমা আক্তার, মোঃ নাজমুল মড়ল সহ স্বজনরা বলেন, “আমরা কোনো প্রতিহিংসা চাই না, আমরা শুধু সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার বিচার চাই। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে মোটোফোনে যোগাযোগ করা হলে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো:
অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।
স্থানীয় সচেতন মহলও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
উক্ত বিষয়ে হোসেনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম সাথে কথা হলে তিনি বলেন - অভিযোগ পেয়েছি আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইন আনুগ ব্যাবস্তা নিবও।