নাটোরে ৪০০ শালিক পাখি হত্যার ঘটনায় থানায় বন বিভাগের অভিযোগ
নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হাটবিলা গ্রামে প্রায় ৪০০টি শালিক পাখি শিকার ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বন বিভাগ। রোববার রাতে রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই দুপুরে হাটবিলা বিল এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব তালুকদার (৩৫), মো. আশিক (২৪), মো. ইসলাম (২৬) ও মো. সজীব (৩২) ফাঁস জালসহ বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক শালিক পাখি শিকার করেন। পরে পাখিগুলো জবাই করে মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি প্রথমে স্থানীয়ভাবে গোপন থাকলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাখি শিকারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে বন বিভাগের। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়। তদন্তে পাখির মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে ফাঁদ পেতে শালিক শিকারের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শালিকসহ বিভিন্ন বন্য পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ভিদের পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিযুক্তদের এ কর্মকাণ্ডের ফলে বন্য প্রাণী ও পরিবেশের আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের নির্বিচারে পাখি নিধন শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বী বলেন, “শালিক পাখি কৃষির জন্য অত্যন্ত উপকারী। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষা করে। কয়েকশ পাখি একসঙ্গে হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।”
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বন বিভাগের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”