মোরেলগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী হঠাৎ করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবস্থান করে তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের রোগীদের সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি, চিকিৎসক সংকট, রোগীদের খাবারের মান এবং ওষুধ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেন। এ সময় হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনের স্টোররুমে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের স্তূপ দেখতে পান তিনি।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক মানুষ সময়মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। অথচ এখানে লাখ লাখ টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। এভাবে কোনো হাসপাতাল চলতে পারে না।
তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। মোরেলগঞ্জ হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা আমি দেখেছি। দ্রুত এ এলাকার মানুষ যাতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বেসরকারি ক্লিনিকও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ক্লিনিকটির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন মন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে-সহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর মোরেলগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক সংকট নিরসন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।