সাভারের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহে সাভারের সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানাগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেত্রী সেজুতি হোসাইন। তিনি এ সংকটকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল এবং দ্রুত বর্ধনশীল জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে সাভারের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ নিত্যদিন দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাস সংকটের কারণে অসংখ্য পরিবার নির্ধারিত সময়ে রান্নার কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে রান্না করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, যার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সেজুতি হোসাইন বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি মনে করেন, সাভারের গ্যাস সংকট সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি সমস্যার সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলো হলো--গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয়, পাইপলাইন ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে দ্রুত উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, শিল্প ও আবাসিক এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সুষম ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রগতি নিয়মিত জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
বিবৃতির শেষাংশে সেজুতি হোসাইন বলেন, “সাভারের মানুষ কোনো বিশেষ সুবিধা চায় না; তারা শুধু তাদের প্রাপ্য নাগরিক সেবা চায়। তাই এই দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক—এটাই সাভারবাসীর প্রত্যাশা।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শিল্প উৎপাদন উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা এখন সময়ের দাবি।