হোসেনপুরে জুলাই শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের কবর জিয়ারত ও দোয়া
সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর(কিশোরগঞ্জ) :
মহান *জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ* এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় কবর জিয়ারত ও দোয়া কর্মসূচি পালন করেছে হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসন। আজ *১৬ ই জুলাই সকালে* উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামে শহীদের কবরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।দোয়া কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- *উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ মোহাম্মদ মহসিন, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোজাহিদুল ইসলাম শিহাব, হোসেনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, সমাজ সেবা অফিসার এহসানুল হক, পিআইও অফিসার আব্দুল আলীম, জুলাই যোদ্ধা মোঃ রতন ভূইয়া* সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শহীদের স্বজনরা।
অনুষ্ঠানে শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এসময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের জন্য দোয়া করা হয়।আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ছিলেন ১৭ বছরের এক সুদর্শন যুবক। পড়তেন ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগে ।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মা-বাবার বারণকে উপেক্ষা করেই লুকিয়ে অংশগ্রহণ করতেন বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে। গত বছরের ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে সবার সাথে বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ। মা'কে না বলেই সে দুপুরে খাবার খেয়ে বের হয়ে পড়েছিলেন বিজয়ের আনন্দে ভাগ বসাতে। কিন্তু বিধিবাম, হঠাৎ একটি মৃত্যু সংবাদই যেন সুখী পরিবারটিকে স্তব্দ করে দেয়।
জানাযায়, ঢাকার উত্তরায় বিজয় মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ। পরে স্থানীয়রা নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি শহীদ হন। তার আত্মত্যাগের মাধ্যমে হোসেনপুরবাসী গর্বিত।
এসময় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, “শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।”
হোসেনপুর থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “শহীদদের স্মরণ রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের দেখানো পথেই আমরা দেশ গঠনে কাজ করে যাবো।”
কর্মসূচি শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন কর্মকর্তারা। তাদের খোঁজখবর নেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।