শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

কটিয়াদীতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চান্দপুর হাজীবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৯ বছর ধরে নেই প্রধান শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক ১২ July ২০২৬ · Sunday · ০৯:১০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চান্দপুর হাজীবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৯ বছর ধরে নেই প্রধান শিক্ষক

কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের ১০১ নং চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়টির মূল ভবন এবং সামনের রাস্তাটি উঁচু হওয়ায়, বৃষ্টির পানি জমে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা এতটাই প্রকট যে, স্বাভাবিকভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়েই সবাইকে হাঁটু পানি ভেঙে বিদ্যালয় ভবনে উঠতে হচ্ছে।

এদিকে নোংরা পানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বৃষ্টি থামলে এবং মাঠের পানি সরে গেলে তবেই তারা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবেন। এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে বিদ্যালয়ের মাঠটিতে মাটি ভরাট করে সামনের রাস্তার সমপর্যায়ে নিয়ে আসা হোক। তাহলে বৃষ্টি হলেও আর জলাবদ্ধতা হবে না এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকবে। মাটি ভরাটের বিষয়ে তারা শিক্ষা বিভাগের জরুরি সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

১৯৭৬ সালে মানিকখালী হাজী বাড়ির আলহাজ্ব আজিজুল হকের বড় ছেলে আলহাজ্ব ফজলুল হক মুকুল মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রয়োজনীয় জমি দান করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।

বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ৯ বছর (২০১৮ সাল থেকে) ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

মোট ২৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ৪ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা (১:৪০ অনুপাত)। সেই হিসাবে এই বিদ্যালয়ে অন্তত ৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৬২.৫, যা সরকারি বিধির চেয়ে অনেক বেশি। 

সরেজমিনে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যখন অফিশিয়াল কাজে উপজেলা সদরে যান, তখন মাত্র ৩ জন শিক্ষকের পক্ষে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে সামলানো এবং পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ নাজনিন সুলতানা মুন্নি এই প্রতিবেদককে বলেন: “জরুরি ভিত্তিতে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় সহকারী শিক্ষক আমাদের বিদ্যালয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। শত কষ্টের মাঝেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।”

সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক অভিভাবকও বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র এই বিদ্যালয়টিই নয়, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার যেসকল বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়, সেগুলোর সমস্যা সমাধানে শিক্ষা বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয় নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছে অফিসকর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

নিকলীতে বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বর্ণাঢ্য র‍্যালী

নিকলীতে বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বর্ণাঢ্য র‍্যালী

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কিশো...

০১ September ২০২৬ · Tuesday · ১১:০৮ অপরাহ্ণ