কুলিয়ারচরে তুচ্ছ ঘটনায় অকালে ঝরে গেল ২০ বছরের তরুণ জুয়েলের জীবন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
মাঠের লড়াইয়ের মতো তুচ্ছ কোনো ঘটনা, আর তার বলি হতে হলো নিরপরাধ এক যুবককে! স্বপ্ন ছিলো চোখে, হাতে ছিলো জীবিকার চাকা। মাত্র ২০ বছর বয়সে যে তরুণের বেঁচে থাকার কথা ছিলো হাজারো স্বপ্নের ডানায় ভর করে, সে আজ পড়ে আছে নিথর হয়ে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ঘটে গেল এমনই এক নির্মম ঘটনা, যা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, আমরা আজ কতটা অসহিষ্ণু।
ঘটনার শুরু শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে। কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া, পেশায় যে গাড়ি চালিয়ে পরিবারের হাল ধরেছিল, সে তখনো জানত না তার যাত্রার শেষ গন্তব্য কোথায়। বন্ধুর ডিমের গাড়িতে করে যাচ্ছিল সে আগরপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর যাওয়ার মোড়েই ওত পেতে ছিলো ঘাতকেরা।
গাড়ি থামিয়ে কোনো কথা না বলে, কোনো যুক্তি না শুনে জুয়েলকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে রাস্তায় প্রকাশ্যে শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন। এলোপাতাড়ি মারপিটে যখন সে লুটিয়ে পড়ল, তখনো ঘাতকদের হৃদয়ে এক ফোঁটা দয়া জাগেনি।পাশের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিভে যায় এই ২০ বছরের প্রাণপ্রদীপ।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক সত্যটি হলো, জুয়েল তো এই বিরোধের সঙ্গেই ছিল না! এলাকাবাসীর দাবি, দুই এলাকার যুবকদের মধ্যে খেলার মতো তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে যে বিরোধ চলছিল, জুয়েল তার ধারেকাছেও ছিল না। পরিস্থিতির শিকার হয়ে, অকারণে কেবল প্রাণ দিতে হলো এক নিরপরাধ যুবককে। কুদ্দুস মিয়ার পরিবারের সেই চতুর্থ সন্তানের প্রস্থানে আজ লক্ষ্মীপুর গ্রাম শোকের মাতম আর আর্তনাদে ভারী হয়ে আছে।
কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, পুলিশ ফোর্স নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ, চলছে মামলার প্রস্তুতি।