নোহার নান্দলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
জামাল উদ্দিন:
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের নোহার নান্দলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব গোপন রাখা এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিভাবক, সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন খাতে অনিয়ম করে আসছেন। তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের আওতায় মাদ্রাসার মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে, মাঠে নামে মাত্র ৫ থেকে ৬ ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে।
মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ২৯ জন শিক্ষক ও প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মাসিক ও বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের কাছে নিয়মিত উপস্থাপনের কথা থাকলেও তিনি তা করেননি।
প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. আব্দুল আলী ও মন্নান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লক্ষ্য ২০ হাজার টাকা কমিশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের বই কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা জানান, সর্বশেষ পরিচালনা কমিটির এক সভায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া কমিশনের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কিন্তু তিনি ওই টাকা ফেরত দেন নাই।
মো. আব্দুল আলী বলেন, তাঁর তিন সন্তান ওই মাদ্রাসায় লেখা-পড়া করেছে তারা কখনো মাসিক বেতন বা পরিক্ষার ফি পরিশোধের টাকার রসিদ পাননি। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করা হলেও কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। আদায়কৃত অর্থ মাদ্রাসার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব তহবিলে জমা না রেখে অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয় এবং সেখান থেকে ব্যয় করা হয়।
তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসার তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে অধ্যক্ষ নিজের নামে "দারুস সালাম ফাউন্ডেশন” নামে একটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এছাড়া শিক্ষকদের কাছে সুদে অর্থ লেনদেন এবং মাদ্রাসার কৃষিজমির উৎপাদিত ধান প্রতিষ্ঠানের গুদামে জমা না রেখে ব্যক্তিগতভাবে তার বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল হামিদের দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ মোজাম্মেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর একাধিক কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হলেও আমাদেরকে কখনো ডাকা হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য অনেক কষ্টের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দ বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমিশনের টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আগে আমি কমিশনের টাকা নিতাম না। পরে দেখি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও নেয়, তাই আমিও নিয়েছি। এটা ঘুষ কি না, আমি জানি না। শিক্ষার্থীদের রশিদ না দেওয়া এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার মাকসুদা বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে সাবেক অভিভাবক কমেটির সদস্যগন ও প্রতিষ্ঠাতার ছেলে মোহাম্মদ মোজাম্মেলসহ এলাকাবাসী অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।