মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা
জামাল উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার :
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের পাড়া পরমানন্দ এলাকায় পূর্বের একটি মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রাসেল মিয়ার (২২) তার মা মনোয়ারা (৬৬) বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অপরদিকে, মনোয়ারার দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিপক্ষ কাজল মিয়াও থানায় একটি পাল্টা মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মো. রাসেল মিয়াকে মারধর করে তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মো. মনির, মো. মাহিন, মো. কাউছার, আরাফাত ও ঝুমা আক্তারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য তাদের বাড়িতে গেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে সমাধানে না গিয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাসেল মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের বেড়া, দরজা-জানালা কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং আলমারিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা নং-৪২ (তারিখ: ২২ মে ২০২৬) দায়ের করা হয়।
বাদী মনোয়ারা বলেন, মাহিন ও তার সহযোগীরা আমার ছেলে রাসেলের হাত থেকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত কাজল মিয়া, তার স্ত্রী মোয়েছানা, ঝুমা আক্তারসহ অন্যরা বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। মামলা প্রত্যাহার না করায় তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চৌদ্দশত ইউনিয়নের এসডিও মার্কেট এলাকার একটি চায়ের দোকানে খেলা দেখার সময় রাসেল মিয়ার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি আহত হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রতন মিয়া দাবি করেন, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় প্রতিপক্ষ প্রতিশোধমূলকভাবে নিজেদের রান্নাঘরে আগুন লাগিয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা মামলা করেছেন।
এই বিষয়ে কাজল মিয়ার আপন ভাই মো. তারেক (পিতা: মৃত আব্দুল হেলিম) বলেন, রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে দেখি ঝুমা বাড়ির পাশের দিক থেকে বের হচ্ছেন। আমি আগুন কীভাবে লাগল জানতে চাইলে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আমার ভাই কাজল ও তার স্ত্রী আমাকে আগুন নেভাতে বাধা দেন এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন, রাসেল ও ওবায়েদ তাদের রান্নাঘরে আগুন দিয়েছে। তবে আমার দাবি, রাসেল ও ওবায়েদকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে আমার ভাই কাজল ও তার স্ত্রী নিজেরাই রান্নাঘরে আগুন লাগিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কাজল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, কাজল মিয়ার ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে সরেজমিনে এলাকায় গিয়েছিলাম। তবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মনোয়ারার পরিবার দাবি করেছে, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।