নতুন পাসপোর্ট করতে যা যা জানা জরুরি: আবেদন, বায়োমেট্রিক ও পুলিশ ভেরিফিকেশন
মো. আল-মাহফুজ শাওন:
ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না জানার কারণে অনেক আবেদনকারী ভোগান্তিতে পড়েন। আবেদন থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং তথ্য যাচাই—প্রতিটি ধাপেই সতর্ক থাকা জরুরি।
আবেদন করার সময় যা খেয়াল রাখবেন
অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের সময় অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বর সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। ভুল নম্বর দিলে পেমেন্ট ভেরিফিকেশনে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট
অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি পিডিএফ কপি পাওয়া যাবে। সেটি প্রিন্ট করে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে—
- আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রের কপি
- ব্যাংক ড্রাফট বা চালানের কপি (যদি প্রযোজ্য হয়)
- পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে)
পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীর ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান এবং ছবি তোলা হবে।
ছবি তোলার সময় পোশাক নির্বাচন
পাসপোর্টের ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাধারণত সাদা হওয়ায় সাদা বা খুব হালকা রঙের পোশাক না পরাই ভালো। গাঢ় রঙের পোশাক পরলে ছবি আরও স্পষ্ট ও ভালো আসে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই
অনেকের ধারণা, পুলিশ ভেরিফিকেশন মানেই হয়রানি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেদনকারীর কাগজপত্র সঠিক থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত জটিলতা না থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশন সাধারণত সহজেই সম্পন্ন হয়।
ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ সদস্য আবেদনকারীর দেওয়া ঠিকানা ও তথ্য যাচাই করেন। তাই আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য প্রদান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক
আবেদনের সব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা বা অন্য কোনো তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
এছাড়া অনলাইনে আবেদনপত্রে যে স্বাক্ষর ব্যবহার করেছেন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সময়ও একই ধরনের স্বাক্ষর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সময়মতো উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ
নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সকালেই পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছানো ভালো। দুপুরের পর ভিড় বেড়ে যাওয়া এবং সার্ভার ধীরগতির কারণে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, আবেদন করার আগে সব তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করলে অল্প সময়েই ঝামেলামুক্তভাবে ই-পাসপোর্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।