বছর পেরিয়েও হয়নি সুরাহা দৌলতপুর যুবদল নেতা মাহাবুব মোল্লা হত্যা মামলার
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
খুলনার দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি মামলার তদন্ত। এ পর্যন্ত মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকি সাতজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে মামলা তুলে নেওয়া ও আদালতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
নিহতের স্ত্রী এরিন সুলতান খুলনা গেজেটকে বলেন, “মামলাটি নিয়ে আমরা যে আশা করেছিলাম, তা পূরণ হয়নি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং কারা অর্থের জোগান দিয়েছে—এখনও পর্যন্ত পুলিশ তা উদঘাটন করতে পারেনি।”
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় মোটরসাইকেলে ছিলেন তানভীর চৌধুরী আপ্পান, রিয়াজ সর্দার সূর্য্য ও রাজীব মোল্লা শুভ। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে মামলার অপর সাত আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নিতে এবং থানায় বা আদালতে না যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, “আপ্পান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে জড়িত আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেছে। কিন্তু পুলিশ এখনো তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মাহাবুব নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। এখনও এলাকার পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রতিদিনই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। পুলিশ আসে, আবার চলে যায়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মাহাবুব জীবিত থাকাকালে দলীয় অনেক শীর্ষ নেতা আমাদের বাড়িতে আসতেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আর কেউ খোঁজ নেননি।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএফএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ফুলতলা এলাকা থেকে অস্ত্রসহ আপ্পান ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে একটি মাহাবুব মোল্লা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে আপ্পান আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে সে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।
পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই খুলনার দৌলতপুর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি করে এবং পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।