মিঠামইনে কোহিনুর হত্যার রহস্য উদঘাটন, আটককৃত আসামীদের রিমান্ড শেষে কোর্টে প্রেরণ
বিজয় কর রতন, মিঠামইন , (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নবম শ্রেণীর ছাত্রী কোহিনুর (১৬) প্রেমিকের সাথে ঘুরতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা স্বীকার কার করেছে হৃদয় ও মিজান নামে দুই অটোচালক। মিঠামইন থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
মিঠামইন থানার ওসি মোঃ লিয়াকত আলী জানান, আটককৃত ২ জনের ১৬১ ধারা জবানবন্দিতে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা জানান, ২৭ শে জুন বিকালে ২ জন সহ আরো কয়েকজন নদী ঘাট এলাকা থেকে অপহরণ করে নৌকায় তুলে ধর্ষণ করে শেষে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত পা বেঁধে হত্যা করে গভীর রাতে মহিষের কান্দি এলাকায় ঘোড়াউত্রা নদীতে লাশ ফেলে দেয়। আটককৃত দুজন কে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।
গতকাল রবিবার রিমান্ডের শেষ দিন। আসামীদের কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদানের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এক সপ্তাহ যাবৎ মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , নাগরিক সমাজ, মিছিল সহ মানববন্ধন করে আসছিলো কোহিনুর হত্যার বিচারের দাবীতে। গত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ -৪ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান কোহিনুরের পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং যত প্রকার আইনি সহায়তা প্রয়োজন তা তিনি করবেন বলে আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, মিঠামইন উপজেলা সদরের তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী কোহিনুর (১৬) , গত শনিবার ২৭ শে জুন বিকাল ৪ টা থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ব্যাপারে কোহিনুরের মা নাহার বেগম মিঠামইন থানায় মেয়ে নিখোঁজের একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কোহিনুর মিঠামইন হেলিপ্যাডের পাশে মাইনুদ্দিনের কলোনিতে মা ও ভাইয়ের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতো । তার বাবার নাম মৃত ফজলু মিয়া। পুলিশ হৃদয় নামে এক অটো চালককে আটক করেছেন। হৃদয় কাওসার হাঁটির মাইনুদ্দিনের পুত্র ।
অভিযোগকারী নাহার বেগম জানান, ঘটনার দিন শনিবার ২৭ শে জুন বিকালে প্রতিদিনের মতো কোহিনুর প্রাইভেট পড়ার জন্য ৪ টা সময় বাড়ি থেকে বের হয় । প্রতিবেশীরা জানান, রাস্তায় অটোচালক হৃদয়ের সাথে কোহিনুর কে কথা বলতে দেখে । কোহিনুরের মা নাহার বেগম জানান, সন্ধার পরও সে যখন বাড়ি ফিরছিল না তখন প্রাইভেট শিক্ষক হিন্দু পাড়ার কমল ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোহিনুর আজ প্রাইভেটে আসেনি । এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের লোকজন। হটাৎ সোমবার ২৯ শে জুন রাত ১০ টায় ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে হামিদ পল্লীর পিছনে লোকজন একটি লাশ ভাসতে দেখে এ সংবাদ পুলিশ কে দেওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে কোন লাশের সন্ধান পায়নি স্থানীয়রা বলছে নদীতে লাশ ভাসতে দেখেছে । এমনকি লাশের ভিডিও প্রকাশ করেছে। লাশের ভিডিও দেখে কোহিনুরের মা নাহার বেগম মেয়েকে চিনতে পেরেছে। কিন্তু নদীর স্রোতে লাশ আর ভেসে উঠেনি । লাশের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ এবং স্থানীয়রা লাশ খোঁজাখুঁজি করছে ।
মিঠামইন থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, হৃদয় নামে অটোচালক কে এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার তথ্য মতে হৃদয়ের চাচাতো বোন জামাই ইমরান মিয়া কে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে কোহিনুরের বড় শুভ মিয়া মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করেছেন।