জুলাই হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি, তবুও রুয়েটে স্বপদে বহাল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা
মো: ইসমাইল, রুয়েট প্রতিনিধি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাইসুল ইসলাম রোজ জুলাই হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ পদে বহাল রয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে তার কর্মস্থলে পুনরায় যোগদানপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাইসুল ইসলাম রোজ ২০০৮-২০০৯ সেশনে রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ওই সময় আবাসিক হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে তিনি আলোচনায় আসেন। পরে বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি রুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরে সেকশন অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
জানা গেছে, ৫ আগস্টের হামলার ঘটনায় রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২ ও ৫০৬ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পর দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর সম্প্রতি রুয়েট রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ৫৫৭০ নম্বর স্মারকের একটি বিজ্ঞপ্তিতে "কর্তব্য-কর্মে যোগদান প্রসঙ্গে" শিরোনামে তার যোগদানপত্র গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাইসুল ইসলাম রোজের বিরুদ্ধে জুলাই হামলাসংক্রান্ত কোনো নথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নেই। তিনি আরও জানান, প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত নয় যে তিনি কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ২০২৩ সালের ৩১ আগস্টের অনুসন্ধান নথিতে তৎকালীন রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সেখের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকায় রাইসুল ইসলাম রোজের নামও রয়েছে।
এছাড়া একই জুলাই হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আরও দুই ব্যক্তি—রফিকুল ইসলাম বিপু ও মুফতি মাহমুদ রনি—বর্তমানেও রুয়েটে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।