নিকলীতে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ, খাদ্য ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার সফল উদ্যোগ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাড়ির আঙিনার মাত্র দুই শতক জমিতে চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রকার সবজি। পরিশ্রম আর যত্নের ফলে ফলন হয়েছে বেশ ভালো। এতে সারা বছরের পরিবারের সবজির চাহিদা মিটে যাচ্ছে সহজেই। শুধু তাই নয়, উদ্বৃত্ত সবজি প্রতিবেশিদের মাঝে বিতরণ করাও সম্ভব হচ্ছে। এভাবে ছোট পরিসরের জমিকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের সবার পুষ্টি চাহিদা মেটাচ্ছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার মঞ্জিলহাটি গ্রামের আহমাদ মাস্টার।তিনি কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক।
নিজ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এমন সবজি বাগান করেছেন বলে জানান তিনি।
নিকলী সদর ইউনিয়নের মঞ্জিলহাটি গ্রামের বাসিন্দা আহমাদ মাস্টার। তিনি নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি পুষ্টি বাগান করেছেন, যা তার পরিবারের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এই বাগান থেকে উৎপাদিত সবজি দিয়ে পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে তিনি কিছু সবজি প্রতিবেশীদের কাছেও বিতরণ করতে পারেন।আহমাদ মাস্টার জানান, নিয়মিতভাবে তার পুষ্টি বাগানের পরিচর্যা তিনি নিজেই করে থাকেন।তার সবজি বাগানের জন্য প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ নিজে কিনে ফসল উৎপাদন করছেন। এ উদ্যোগের ফলে তার পরিবারের জন্য বাজার থেকে সবজি কিনতে হয় না। নিজের বাগান থেকেই পরিবারের সবজির চাহিদার বেশির ভাগ অংশ মেটাতে সক্ষম হচ্ছেন।
পাশাপাশি পাড়া প্রতিবেশিদের মাঝেও সবজি উপহার হিসেবে প্রদান করে থাকেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে সারা দেশে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন নামে প্রকল্প চালু হয়। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আব্দুস সামাদ বলেন, পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনাসহ প্রতি ইঞ্চি জমিতে আবাদের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পারিবারিক স্বচ্ছলতা ও দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একজন কৃষক সারা বছরই খামার থেকে কিছু না কিছু পাবেনই।
এই প্রকল্প হতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়।যা চলতি জুন মাসে প্রকল্পটি শেষ হবে।