রামপুরে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মাদকমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর গ্রামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। *“মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন, মাদকমুক্ত রাষ্ট্র গড়ুন”* এই স্লোগানে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সভাটি আয়োজন করে *রামপুর এলাকাবাসী*।
গত ২৬রোজ শুক্রবার বাদ এশা* রামপুর বাজার, ধানমহল ময়দানে রামপুর বাজারে সাবেক সভাপতি শাহজাহান আমিরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।
হয়তো মাদক ছাড়ো, নয়তো রামপুর গ্রাম ছাড়ো*। বক্তারা বলেন, রামপুর গ্রামকে মাদক ও জুয়ার আখড়া হতে দেওয়া হবে না। যারা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত, তাদের জন্য রামপুরের মাটিতে আর কোনো স্থান নেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ—এই চারটি অপরাধ তরুণ প্রজন্মকে শেষ করে দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন কঠোরভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সমাজের সকলের সহযোগিতা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “রামপুর এলাকাবাসী যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের তথ্য পুলিশকে দিন, আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
সভায় বক্তারা মাদকের কুফল, জুয়ার কারণে পরিবারে ভাঙন, ইভটিজিংয়ের ফলে নারীর শিক্ষা ও নিরাপত্তা বিঘ্ন এবং বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোগো ও পুলিশের লোগো সম্বলিত ব্যানারে “না” চিহ্ন দিয়ে সিগারেট, ইনজেকশন, মদের বোতল ও ইয়াবার ছবি দেখিয়ে তরুণদের সতর্ক করা হয়।
বক্তারা বলেন, “আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হলে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে, শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে।”
সভা শেষে রামপুর এলাকাবাসী সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন:
1. রামপুর গ্রামকে মাদক ও জুয়ামুক্ত ঘোষণা করা হলো।
2. কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সেবীকে গ্রামে আশ্রয় দেওয়া হবে না।
3. ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
4. সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য দ্রুত থানা পুলিশকে জানানো হবে।
সভায় এলাকার মুরুব্বি, শিক্ষক, সাংবাদিক, যুবসমাজ ও রামপুর বাজারে ব্যাবসায়ীক ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন। সবার কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর রামপুর চাই।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই আলোচনা সভার মাধ্যমে রামপুর গ্রাম মাদকবিরোধী আন্দোলনের একটি মডেল হয়ে উঠবে। প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে।