অনলাইন জুয়ায় ৭ বছরের কারাদণ্ড থাকলেও থামছে না মরণনেশা; যুবসমাজ ধ্বংসের পথে
মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ,কক্সবাজার:
দেশজুড়ে অনলাইন জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যুবসমাজের একটি বড় অংশ এসব অপসংস্কৃতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলো মনে করছেন, যুবসমাজকে রক্ষায় এখনই কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সরকার অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। বিদ্যমান আইনে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে আইন থাকলেও অনেক এলাকায় এর কার্যকর প্রয়োগ, নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান না থাকায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজার জেলা, ঈদগাঁও উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশে অবস্থানরত বহু ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সুযোগে বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে যুক্ত হচ্ছে। এতে তারা লেখাপড়ায় মনোযোগ হারাচ্ছে এবং পিতা-মাতার কষ্টার্জিত অর্থ জুয়ার পেছনে ব্যয় করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেকেই দ্রুত লাভের আশায় অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি করছেন। এমনকি অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অনেক ব্যক্তি মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্তি বর্তমানে সমাজের জন্য এক নীরব মহামারিতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে পরিবারে কলহ-বিবাদ, দাম্পত্য অশান্তি, পারিবারিক ভাঙন, নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবকরা জানান, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক তরুণ রাতভর মোবাইল ফোনে সময় কাটাচ্ছে। ফলে তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং অপরাধী চক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা অপরাধের জগতেও জড়িয়ে পড়ছে।
সচেতন মহল অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, “আজকের যুবসমাজই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের যদি অনলাইন জুয়া ও মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করা না যায়, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।”
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ।