কেদার ইউপি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আব্দুল বাতেন
মোঃ সাইফুর রহমান
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
তিনি চর টেপারকুটি এলাকার বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকে মাদারগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব খামার দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে মোঃ আব্দুল বাতেন বলেন, তাঁর চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের বৈষম্য দূর করা, একটি মাদকমুক্ত ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই নির্বাচনকে ব্যবসা হিসেবে দেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর সেই অর্থ জনগণের অধিকার থেকে আদায় করার চেষ্টা করেন। তিনি এই সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে চান এবং জনগণকে এ ধরনের চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো গরিবের হক নষ্ট করতে চাই না। দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের দোয়া, সমর্থন ও একটি মূল্যবান ভোট কামনা করছি। জনগণের অধিকার রক্ষা করাই হবে আমার প্রধান দায়িত্ব।”
নির্বাচিত হলে তাঁর অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জনসেবা সহজ ও দ্রুত নিশ্চিত করা, মাদক, জুয়া ও সামাজিক অপরাধ শক্ত হাতে দমন করা এবং সরকারি কৃষি সহায়তা প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত বীজ, সার ও কৃষি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায় না। তিনি এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুল বাতেন বলেন, “কোনো দেশকে উন্নত করতে হলে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব, নৈতিকতা ও সচেতনতা তৈরি হয়। আমি কেদার ইউনিয়নকে একটি শিক্ষিত, আদর্শ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও জানান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা করবেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। যুবকদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
এছাড়া ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “ছয় মাস বা এক বছর পরপর জনগণের সামনে উন্মুক্তভাবে উন্নয়ন কাজের হিসাব তুলে ধরব। ইউনিয়নের প্রতিটি টাকার ব্যয়ের তথ্য জনগণ জানতে পারবে।”
শেষে তিনি কেদার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা, দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।