ইউনূস-নুরজাহানের শাস্তি চেয়ে ঢাকায় নিষিদ্ধ আ’লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ
জাতীয় রাজনীতি ডেস্ক:
হামে শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে মৃত্যু ঠেকাতে না পারায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের শাস্তির দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। সেই ঝটিকা মিছিল থেকে তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের মূল সড়কে এ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে এক নারীসহ চারজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, মিজানুর রহমান হাওলাদার (৪০), শামীম আরা বেবি (৫০), মনির হোসেন (৪৮) ও মো. জুয়েল মিয়া (৪১)।
শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের লোকজন এটি ঘটিয়েছে। যারা ঘটিয়েছে তাদের মধ্য থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
গুলশান ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলেন, প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ ব্যানারে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের প্ল্যাকার্ডও ছিল। তারা ‘প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে নিষ্পাপ সম্ভাবনাময় শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউনূস-নূরজাহানদের বিচার এবং মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার’ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের উদ্দেশে সেখানে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই’—এমন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে ব্যানার ও ফেস্টুনে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি দেখা গেছে। মিছিল শেষ করে যাওয়ার সময় ককটেলগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
তবে এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল্লাহ আল ইমরান জাগো নিউজকে বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কোনো কর্মসূচির তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। ব্যানারেও একটু ডিফরেন্ট শব্দ লেখা। ব্যানারে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে নিয়ে হামের টিকার বিষয়ে লেখা ছিল। আমরা তদন্ত করছি।