মাদকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: রীফা রাওনাক নীতু
নাটোর প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করে মাদকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রীফা রাওনাক নীতু। তিনি বলেছেন, “শিক্ষার্থীরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদেরকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে শিক্ষক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।”
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নাটোর জেলা কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় নাটোর জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক প্রতিরোধে মেন্টর হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও একটি বড় হুমকি। মাদকাসক্তি একজন মানুষকে ধীরে ধীরে অন্ধকার ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তাই নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মো. রোস্তম আলী হেলালী। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের আচরণ, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিও শিক্ষকদের নজর রাখতে হবে। তাহলেই তারা মাদকের মতো ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে থাকতে পারবে।”
মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শহীদুল হক সরকার। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি সচেতনতা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে মাদক নির্মূলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষকরা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে শিশু-কিশোররা সঠিক মূল্যবোধ ও আদর্শ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।”
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রীফা রাওনাক নীতু। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, মাদকাসক্তির কারণ, প্রতিরোধ কৌশল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা বিভিন্ন মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত আলোচনা সভা, কাউন্সেলিং, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং মাদকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসন ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি মাদকমুক্ত ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।