হোসেনপুর সংবাদ-এর উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন হারিয়ে যাওয়া বৃদ্ধ
সঞ্জিত চন্দ্র শীল
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে “হোসেনপুর সংবাদ”। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এক বৃদ্ধকে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে স্থানীয় এই সংবাদমাধ্যম।
গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের আদুমাস্টার বাজার এলাকায় এক বয়স্ক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন তার পরিচয় জানার চেষ্টা করলে তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি। পরে জানা যায়, তিনি বোবা এবং নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে অক্ষম। অনেক চেষ্টা করেও তার ঠিকানা বা পরিবারের কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে উপস্থিত লোকজনের অনুরোধে ওই বৃদ্ধকে একটি কাগজে নিজের নাম লিখতে দেওয়া হলে তিনি “মন্নান” নামটি লিখে জানান। এরপর বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও “হোসেনপুর সংবাদ”-এর পরিচালনাকারী সঞ্জিত চন্দ্র শীলের নজরে আসে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাংবাদিক সঞ্জিত চন্দ্র শীল ওই বৃদ্ধের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে “হোসেনপুর সংবাদ” ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টটিতে বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্টটি শেয়ার ও প্রচার করতে থাকেন। অবশেষে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টটি দেখতে পান এবং হোসেনপুরে এসে তাদের হারিয়ে যাওয়া বাবাকে শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধকে খুঁজে না পেয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, তিনিই তাদের বাবা। পরে তারা হোসেনপুরে এসে তাকে সুস্থ অবস্থায় নিজেদের কাছে নিয়ে যান।
এ সময় বৃদ্ধের সন্তানরা “হোসেনপুর সংবাদ”, সাংবাদিক সঞ্জিত চন্দ্র শীল এবং সহযোগিতাকারী স্থানীয় জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দ্রুত তথ্য প্রচার এবং মানুষের সহযোগিতার কারণেই তাদের বাবা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পেরেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মানবিক কাজে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন ভূমিকা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। হারিয়ে যাওয়া বা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।