হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ৩, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট
মোঃ ইসমাইল হোসেন,
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি থাকা এক রোগীর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। হাসপাতালের কাগজপত্রে অভিযুক্তকে ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে তিনি হাসপাতালে ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মিঠাবো (মাছুমাবাদ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী জুম্মন ভূঁইয়া জানান, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়া এবং বড় ভাই সুমন ভূঁইয়ার কাছে একই এলাকার মৃত আব্দুল হাই ভূঁইয়ার ছেলে সোহেল ভূঁইয়া, রোমান ভূঁইয়াসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা না দিলে হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১ জুন সোমবার রাত ১০টার দিকে সোহেল ভূঁইয়া, তুষার, সাদ্দাম, রোমানসহ ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুম্মন ভূঁইয়াদের মুদি ও মনোহারি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়ার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় জুম্মন ভূঁইয়া ও তার ভাই সুমন ভূঁইয়াও আহত হন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল ভূঁইয়া আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তবে হাসপাতালের নথিতে ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
এরপর বুধবার সকালে সোহেল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একই দল আবারও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাছেদ ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়া, জুম্মন ভূঁইয়া ও সুমন ভূঁইয়া আহত হন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বাদল কুমার সাহা বলেন, “সোহেল ভূঁইয়া নামের একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তবে তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন। পরে তার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
অভিযুক্ত সোহেল ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।