অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে ইবি শিক্ষার্থীরা নীতি নৈতিকতায় এগিয়ে— ইবি উপাচার্য
তালুকদার হাম্মাদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে নীতি এবং নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের দিক থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি এগিয়ে। এটিই হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্য এবং আলাদা স্বতন্ত্রতা। আশা রাখছি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা এই সুনামকে ধরে রাখবে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় অর্জিত এই শিক্ষার মর্যাদা রক্ষা করবে এবং মানবিক গুণসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। শনিবার (১ আগষ্ট) বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিকে অতিথিদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টির যেমন কিছু সুনাম রয়েছে। তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতা ও বেদনার জায়গাও রয়েছে। তাই আজকে সম্মানিত অতিথিদের কাছে কিছু দাবি জানাতে চাই। প্রথমত, ১৯৯০ সালে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর সংস্কার বা উন্নয়নের কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিশ্চিত নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সহযোগিতা করার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া, খেলাধুলায় এই বিশ্ববিদ্যালয় বহুবার আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও আজও এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী স্টেডিয়াম গড়ে ওঠেনি। তাই এখানে একটি স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণের আপনারা জোর সহযোগিতা করবেন এই দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, অতীতের ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ঘাটতি, কানেক্টিং রোডের বেহাল দশা এবং শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষক নিয়োগের ব্যর্থতা থেকে উত্তরণে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে, বর্তমানে আটটি বিভাগে মাত্র এক থেকে তিনজন শিক্ষক নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়সহ সবার নিকট আকুল আবেদন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষক ঘাটতি পূরণে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা আশ্বস্ত করছি যে, কোনো ধরনের আপোশ ছাড়াই সর্বকালের সেরা ও যোগ্যতম শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।
প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী যুক্ত হন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আবদুল খালেক, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ অন্য শিক্ষক, কর্মচারী-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।