রাতের ভোটের ‘কারিগর’ অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে ৩৩ এসপিকে
মো: আল-মাহফুজ শাওন :
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ‘রাতের ভোটের কারিগর’ হিসেবে অভিযুক্ত পুলিশ ক্যাডারের অন্তত ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব কর্মকর্তা বিসিএস ২০তম ব্যাচের সদস্য এবং নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও অধিকাংশই বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারার আওতায় তাদের অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
একই সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের অন্তত ৩৩ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি), যারা সে সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাদেরও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তারাও ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন।
জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই কর্মকর্তাদের ওএসডি করে রাখা হয়েছে। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এখন জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ২২ জন জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। পরে তৎকালীন স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৬৪ জেলার এসপিদেরও একইভাবে অবসরে পাঠানো হবে। এরপরই ওই সময়ের ৬০ জন এসপিকে ওএসডি করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকা ৬৪ জন এসপির মধ্যে অন্তত ২৯ জন বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। এছাড়া একই ব্যাচের আরও চারজন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে নির্বাচনী কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাকরি হারানোর তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— শাহ মিজান শাফিউর রহমান, হারুন অর রশীদ, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, জিহাদুল কবির, মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ড. শামসুন্নাহার, নূরে আলম মিনা, সাইফুল ইসলাম, মাশরুকুর রহমান খালেদ, ইলিয়াছ শরীফ, আনোয়ার হোসেন খান, জাকির হোসেন খান, মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, শাহ আবিদ হোসেন, আলমগীর কবির, মনিরুজ্জামান (ঠাকুরগাঁও), বরকতুল্লাহ খান, মাহবুবুর রহমান, মঈনুল হক, খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, টুটুল চক্রবর্তী, রশীদুল হাসান, মনিরুজ্জামান (সিলেট), শেখ রফিকুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল্লাহ আল মামুন, টি এম মোজাহিদুল ইসলাম এবং মেহেদুল করিমসহ মোট ৩৩ কর্মকর্তা।
এদিকে একই কারণে চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন সাবেক জেলা প্রশাসকও। গত বছর তাদের ওএসডি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাদের বিরুদ্ধেও একই আইনি প্রক্রিয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
**সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা** অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রকাশের পরই চূড়ান্ত তালিকা ও সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।