মনিরামপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েকজন বখাটের উত্যক্তের শিকার হচ্ছিল। শনিবার (৪ জুলাই) প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় জয়নগর জামতলা এলাকায় তাকে একা পেয়ে সমীরসহ কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সমীরকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ সক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের কোনো ধরনের প্রভাব বা পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না; আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও সময়মতো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে হয়তো এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরা বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও উদ্বেগজনক প্রতিফলন।