বাউবি কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়!
মো: আরিফুল ইসলাম,পাবনা জেলা প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক (সরকারি) বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ১৯৯২ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া একটি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এটিও সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এবং এর চ্যান্সেলর বা আচার্য হলেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি।
সার্টিফিকেটের মান: বাউবি’র সার্টিফিকেটের মান নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা থাকে, তবে বাস্তব চিত্রটি এমন:
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত: বাউবি’র সার্টিফিকেট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত। দেশের বাইরেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয়।
চাকরির ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা: সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো চাকরিতে বাউবি থেকে প্রাপ্ত ডিগ্রি (যেমন: SSC, HSC, BA, BSS, BBA, MBA) সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। বিসিএস (BCS)সহ সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাউবি শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারেন।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ: বাউবি থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে (যদি ওই প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ভর্তি নীতিমালা পূরণ হয়)।
কর্মজীবীদের জন্য সেরা মাধ্যম: এর মূল উদ্দেশ্য হলো যারা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়তে পারেন না, তাদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়া। তাই এর সার্টিফিকেটের মান নিয়মিত পদ্ধতির ডিগ্রির মতোই।
কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা: কর্মজীবী বা বয়স্কদের জন্য এখানে পড়ার বিশেষ সুযোগ থাকে।
দূরশিক্ষণ পদ্ধতি: সরাসরি ক্লাসের চেয়ে টিউটোরিয়াল সেন্টার এবং ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সার সংক্ষেপ: আপনি যদি বাউবি থেকে পড়াশোনা করেন, তবে আপনার সার্টিফিকেটের আইনি বা পেশাগত মান অন্য যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই থাকবে। মান নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাউবি একটি বৈধ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং এর সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য। তবে নিজের স্কিল ও পারফরম্যান্স উন্নত করা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।